কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলের কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার একটি ট্রলার উল্টে দুই জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা সাগরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিহত জেলেরা হলেন ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম। নিখোঁজ রয়েছেন নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহ। তাঁদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকার ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন মাছ ধরার ট্রলারটি নিয়ে কয়েকজন জেলে মঙ্গলবার রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে রওনা হন। সাগরে মাছ ধরার পর ট্রলারটি নাজিরারটেক উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাতে আবহাওয়া বৈরী হয়ে ওঠে।
ভোররাত ৪টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। এতে ট্রলারে থাকা জেলেরা সাগরে পড়ে যান। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশে থাকা স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে তাঁরা ফয়েজ আহমেদ ও সাইফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ দুই জেলে নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহর সন্ধানে স্থানীয় জেলেরা সাগরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে মোট কতজন জেলে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ট্রলারডুবির ঘটনায় মোট কতজন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকার একটি বড় অংশ মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য বৈরী আবহাওয়া বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ঝড়ের সময় সাগরের ঢেউ ও বাতাসের তীব্রতা বেড়ে গেলে ছোট মাছ ধরার ট্রলার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে ফিরে আসা জেলেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নাজিরারটেক উপকূলে সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় দুই জেলের মৃত্যু এবং আরও দুইজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ নুরুল আলম ও মুহিব উল্লাহর সন্ধানে স্থানীয় জেলেদের উদ্ধার তৎপরতাই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।








