ফিলিপাইনের জাম্বোয়াঙ্গা শহরের একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও নয়জন। মঙ্গলবার ভোরে আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থী ও দুই নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের পাঠদান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিদ্যালয়টির ভেতরে গুলির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
ফিলিপাইনের জাতীয় তদন্ত ব্যুরো জানিয়েছে, হামলায় আহত নয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন পুরুষ এবং তিনি ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা জাম্বোয়াঙ্গা শহরের শুল্ক কার্যালয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে বিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে কোনো দৃশ্যমান উসকানি ছাড়াই একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হামলার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জাম্বোয়াঙ্গা শহরের মেয়র খাইমার আদান ওলাসো জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যিশু সম্প্রদায় পরিচালিত ওই বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর বিদ্যালয়টির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে হামলার পর বিদ্যালয় ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত অবস্থায় বের হয়ে দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে। ভিডিওতে গুলির শব্দও শোনা যায়। তবে এসব ভিডিওর বিস্তারিত সত্যতা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
হামলার পর পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ এবং হামলার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছাল এবং তিনি কী উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
চারজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্রের উৎস এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।









