দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি ৯ জনের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ ছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে বরিশালে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, ঢাকায় ৪ জন, খুলনায় ১ জন এবং সিলেটে ১ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ মিলিয়ে মোট ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম শনাক্ত হওয়ার পর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এদের মধ্যে ২৪ হাজার ৯০ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক ও সামগ্রিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ শনাক্ত শিশু | ১,১৬৬ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ১০ |
| মোট মৃত্যু (১৫ মার্চ থেকে) | ২৯৪ |
| উপসর্গজনিত মৃত্যু | ২৪৪ |
| হাম শনাক্তের পর মৃত্যু | ৫০ |
| মোট উপসর্গ শনাক্ত শিশু | ৪০,৪৯১ |
| হাসপাতালে ভর্তি শিশু | ২৭,৮১৬ |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু | ২৪,০৯০ |
| নিশ্চিত হাম শনাক্ত শিশু | ৫,৩১৩ |
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সময়কালে হামের উপসর্গ ও সংক্রমণ পরিস্থিতি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ উভয় ধরনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় এলাকাগুলোতেও উপসর্গজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যেখানে আক্রান্ত, ভর্তি, সুস্থ হওয়া এবং মৃত্যুর হালনাগাদ সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
