প্রিমিয়ার লিগে টানা ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত রেখে নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে ৩–১ গোলে হেরে গেছে চেলসি। এই পরাজয়ের ফলে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে লন্ডন ক্লাবটির জন্য।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে চেলসি। ডিলান বাকওয়ার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তাইও আয়োনিয়ি। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে রক্ষণে চাপ বাড়ে চেলসির ওপর। ফরেস্ট এই ম্যাচে মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন এনেছিল, তবুও চেলসির রক্ষণভাগ ধারাবাহিকভাবে চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়।
১০ মিনিটের দিকে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর সুযোগ পান, তবে তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সুযোগ মিসের পরপরই চেলসির বিপর্যয় আরও বাড়ে। বক্সে আয়োনিয়িকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফরেস্ট। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইগর জেসুস। ১৫ মিনিটের আগেই চেলসি ০–২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
বিরতির ঠিক আগে জেসি ডেরি ও জ্যাচ অ্যাবটের সংঘর্ষে প্রায় ১২ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। অভিষেক ম্যাচে ডেরিকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। এই সময় চেলসি একটি পেনাল্টি পায়, কিন্তু কোল পালমারের শট গোলরক্ষক ম্যাট সেলস রুখে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও চেলসির অবস্থার উন্নতি হয়নি। মরগান গিবস–হোয়াইটের পাস থেকে আবারও গোল করেন আয়োনিয়ি। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ০–৩। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় চেলসির একটি গোল বাতিল হয়। যোগ করা সময়ে জোয়াও পেদ্রো ওভারহেড কিকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে মাত্র।
৩৫ ম্যাচ শেষে চেলসির পয়েন্ট ৪৮, অবস্থান নবম স্থানে। শীর্ষ পাঁচে থাকা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৫৮। বাকি তিন ম্যাচে জয় পেলেও চেলসির সর্বোচ্চ পয়েন্ট হতে পারে ৫৭, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।
নিচে চেলসি ও শীর্ষ পাঁচে থাকা দলের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হলো—
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| চেলসি | ৩৫ | ৪৮ | ৯ |
| অ্যাস্টন ভিলা | ৩৫ | ৫৮ | ৫ |
| নটিংহাম ফরেস্ট | ৩৫ | তথ্য অনুপস্থিত | শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছি |
এই ফলাফলের পর চেলসির মৌসুমের বাকি অংশ শুধুমাত্র পয়েন্ট সংগ্রহের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যেখানে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনা আর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই।
