অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ১৬তম আসরেও হোবার্ট হ্যারিকেন্সের হয়ে খেলবেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। গত মৌসুমে অভিষেকেই বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রেখে দলের আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন মৌসুমের জন্যও তাঁকে দলে রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিশাদকে দলে ফেরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে হোবার্ট হ্যারিকেন্স। এতে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে দ্বিতীয়বারের মতো খেলার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ লেগ স্পিনার।
গত মৌসুমে হোবার্টের হয়ে ১২টি ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করেন রিশাদ। দলের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল তাঁর। বিদেশের মাটিতে প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে নেমে এমন পারফরম্যান্স তাঁকে আলাদা করে পরিচিতি এনে দেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বিপরীতে স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা রাখার যে সুযোগ রয়েছে, রিশাদ নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
রিশাদের বোলিংয়ের অন্যতম শক্তি লেগ স্পিনের পাশাপাশি গুগলি ব্যবহারের দক্ষতা। ব্যাটারদের জন্য বলের গতিপথ ও ঘূর্ণন অনুমান করা কঠিন করে তুলতে পারলে এই ধরনের বোলিং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একজন লেগ স্পিনারের প্রধান দায়িত্ব। গত মৌসুমে ১৫ উইকেট নিয়ে রিশাদ হোবার্টের বোলিং আক্রমণে নিজের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এবার তাঁর সামনে থাকবে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার চ্যালেঞ্জ। বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। ফলে বোলারদের শুধু উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য থাকলেই চলে না, রান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক লাইন-লেংথ বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি বুঝে বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তনের দক্ষতাও প্রয়োজন। প্রথম মৌসুমের অভিজ্ঞতা রিশাদকে এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
নতুন মৌসুমে হোবার্টের বোলিং বিভাগে রিশাদের সঙ্গে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। মেলবোর্ন রেনেগেডস ছেড়ে হোবার্ট হ্যারিকেন্সে যোগ দিয়েছেন তিনি। ফলে একই দলে দুই লেগ স্পিনারকে পাওয়ায় বোলিং আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে বাড়তি বিকল্প পাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
জাম্পা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ স্পিনার। তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ রিশাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং পরিকল্পনা তৈরি, চাপের মধ্যে স্নায়ু ধরে রাখা এবং ব্যাটারদের দুর্বলতা কাজে লাগানোর মতো বিষয়ে অভিজ্ঞ সতীর্থের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। তবে দুই স্পিনারকে একাদশে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে দলের কৌশল, প্রতিপক্ষ এবং ম্যাচের কন্ডিশনের ওপর।
হোবার্ট হ্যারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্যালিয়ান বিমস জানিয়েছেন, গত মৌসুমে হোবার্টে খেলার অভিজ্ঞতা রিশাদের ভালো লেগেছিল। তিনি আবারও দলটিতে ফিরতে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর এই আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে চুক্তির বিষয়ে এগিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। রিশাদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি থেকে স্পষ্ট, গত মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স দলটির পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিগ ব্যাশ লিগের ১৬তম আসর শুরু হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর। হোবার্ট হ্যারিকেন্সের প্রথম ম্যাচ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতিপক্ষ ব্রিসবেন হিট। আসন্ন মৌসুমের প্রথম আটটি ম্যাচে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রিশাদ। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুর পর্বে তাঁকে ঘিরে হোবার্টের বোলিং পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা থাকবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়েরও একটি ক্ষেত্র। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই দলে বা বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে কৌশলগত জ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। রিশাদের ক্ষেত্রেও বিগ ব্যাশে দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণ সেই সুযোগ তৈরি করছে।
গত মৌসুমে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে দলের সেরা উইকেটশিকারি হওয়া রিশাদ এবার আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন। অ্যাডাম জাম্পার মতো অভিজ্ঞ স্পিনারের সঙ্গে একই দলে থেকে নিজের বোলিংকে আরও কার্যকর করে তোলার সুযোগও রয়েছে তাঁর সামনে। এখন দেখার বিষয়, নতুন মৌসুমে হোবার্টের আস্থার প্রতিদান দিয়ে কতটা সফল হতে পারেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার।









