মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার যাদব চন্দ্র গোপের ছেলে।
হত্যার ঘটনা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জিতেশ চন্দ্র গোপ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের একটি মার্কেটে ফার্মেসির ব্যবসা করতেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ফার্মেসির ভেতরেই শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
প্রবাসীর স্ত্রী জ্যোৎস্নাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। মামলায় হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গুমের চেষ্টার বিষয়টিও বিবেচনায় আসে। বিচার শেষে আদালত দুই অপরাধের জন্য পৃথক সাজা ঘোষণা করেন।
দুই অপরাধে পৃথক দণ্ড
আদালতের রায়ে জিতেশ চন্দ্র গোপকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এ সময় আসামিকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে রায় ঘোষণার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
জগন্নাথপুরের এই হত্যাকাণ্ডে আদালতের রায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে উচ্চ আদালতের অনুমোদন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।









