ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় শুক্রবার দুপুরে জরুরি ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সকাল ৯টায়, যখন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা সমাবেশ করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হন।
মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। যদিও মিছিল একবার ছত্রভঙ্গ হয়, কিছু সময় পর আন্দোলনকারীরা আবারও যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ১৪৪ ধারা কার্যকর করার ঘোষণা দেন। পুলিশ, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার উদ্দেশ্যে, সংঘর্ষ চলাকালীন বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োগ করে।
নিচের টেবিলটি ঘটনা ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ার সময়সূচি দেখাচ্ছে:
| সময় | ঘটনা | পুলিশ প্রতিক্রিয়া | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ৯:০০am | শহীদ মিনারে সরকারি কর্মচারীদের সমাবেশ | – | মিছিলের প্রস্তুতি |
| ১১:০০am | হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে মিছিল পৌঁছায় | ব্যারিকেড বসানো | ধাক্কাধাক্কি শুরু |
| ১১:১৫am | আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে | টিয়ার গ্যাস ও জলকামান প্রয়োগ | মিছিল ছত্রভঙ্গ |
| ১১:৩০am–12:00pm | পুনরায় আন্দোলনকারীরা মিছিলের চেষ্টা | সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার | দফায় দফায় সংঘর্ষ |
| ১২:০০pm | প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের আশেপাশে উত্তপ্ত পরিস্থিতি | ১৪৪ ধারা জারি | শান্তি ফিরিয়ে আনা |
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকার সময় ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল বা সভা নিষিদ্ধ। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
এই সংঘর্ষের ফলে সাময়িকভাবে যমুনা এলাকায় যানজট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের এই ধরনের আন্দোলন এবং তাতে পুলিশের পদক্ষেপ দেশের প্রশাসনিক সংহতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
