দুই প্রতিবেশী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধির মধ্যে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি উচ্চস্তরের কূটনৈতিক আলোচনা। তবে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কতা সতর্কতা (Travel Advisory) জারি করেছে। এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্থানীয় পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনিশ্চিত। ফলে নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার উপর নির্ভর না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইরান ছাড়ার প্রস্তুতি নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস জানিয়েছে, “ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ এবং অনিশ্চিত পরিবহন সংযোগের কারণে মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
একই সময়ে, ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি প্রায় নয় মাস পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা। বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল ১০টায় (ওমান সময়) এবং এর মাধ্যমে দুই দেশ সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে চাইছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক পথ অনুসরণের সংকেত দিচ্ছে।
গত কিছু মাসে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সরকার যে সহিংস পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকের স্থান ও পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আলোচনার পণ্ড হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় বৈঠকটি চূড়ান্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার দাবি তুলেছে। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন, এবং নাগরিকদের প্রতি আচরণ বিষয়টিও আলোচনার অংশ হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে। ইরান, অন্যদিকে, আলোচনাকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হুমকি জারি করেছেন। ইরানও পাল্টা জবাবে আমেরিকান সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যিনি ইতিমধ্যে মাস্কাট পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
সংক্ষেপে কূটনৈতিক পরিস্থিতি:
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| পারমাণবিক কর্মসূচি | স্থগিত ও ইউরেনিয়াম হ্রাস | সীমাবদ্ধ আলোচনায় সীমিত | মতপার্থক্য রয়েছে |
| ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত | আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয় | সংঘর্ষের ঝুঁকি বিদ্যমান |
| আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী | সমর্থন বন্ধ করা উচিত | প্রাসঙ্গিক নয় | তীব্র মতপার্থক্য |
| নাগরিক নিরাপত্তা | অবিলম্বে দেশ ত্যাগের আহ্বান | কোনো মন্তব্য নেই | উচ্চ সতর্কতা জরুরি |
| সামরিক হুমকি | ব্যর্থ হলে আঘাতের হুমকি | আমেরিকান স্থাপনায় পাল্টা হুমকি | উত্তেজনা তীব্র |
এই আলোচনার ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বৈঠক সফল হলে এটি ভবিষ্যতের কূটনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে সহায়ক হবে।
