খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বকে সামনে রেখে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে এক বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী। ঘানার আলোচিত ওঝা কোয়াকু বনসাম এবার দাবি করেছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে বনসাম দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, এই ম্যাচেই শেষ হবে লিওনেল স্কালোনির দলের বিশ্বকাপ যাত্রা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেপ ভার্দেই হবে সেই দল, যারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় জানাবে।
কোয়াকু বনসাম এর আগেও বিশ্বকাপ চলাকালে আলোচনায় এসেছিলেন। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচের আগে তিনি ইংলিশ অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে নিয়ে একটি বহুল আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। বনসাম বলেছিলেন, তিনি আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করবেন যাতে চোট না পেলেও কেইন ঘানার বিপক্ষে গোল করতে না পারেন।
কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচে কেইন গোল করতে ব্যর্থ হন এবং ইংল্যান্ড-ঘানার লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। চলতি বিশ্বকাপে সেটিই ছিল কেইনের একমাত্র গোলহীন ম্যাচ। এই ঘটনার পর বনসামের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকেই তার পূর্বাভাসকে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য করেন।
পরে বনসাম আরও দাবি করেন, তিনি কেইনের ওপর থেকে তার কথিত আধ্যাত্মিক প্রভাব সরিয়ে নিয়েছেন, কারণ ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইংলিশ তারকাকে শত্রু মনে করেন না। এমনকি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিজের এক সন্তানের নাম ‘হ্যারি’ রাখার ইচ্ছাও রয়েছে।
এরপরই পানামার বিপক্ষে ম্যাচে আবারও গোলের দেখা পান হ্যারি কেইন। এতে বনসামের আগের মন্তব্য ঘিরে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই এবং এগুলো মূলত ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কুসংস্কারনির্ভর বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপেও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছে। তবে নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা, যেখানে একটি ভুলই পুরো অভিযানের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।
কেপ ভার্দেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তুলনামূলক কম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হলেও দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে।
এখন দেখার বিষয়, কোয়াকু বনসামের এই নতুন ভবিষ্যদ্বাণীও কাকতালীয়ভাবে বাস্তবে রূপ নেয় কি না, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।
মন্তব্য