খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৯:৪১ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে যদি হন ফ্রান্সের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় বা ‘এমভিপি’, তবে তরুণ উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে হলেন দলটির ‘এমআইপি’ বা ‘মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট প্লেয়ার’। ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি থিয়েরে অঁরি সম্প্রতি ওলিসেকে নিয়ে এমন মন্তব্যই করেছেন। চলমান বিশ্বকাপে এই ফরাসি তরুণের পায়ের জাদু যারা দেখছেন, তারা অঁরির এই মন্তব্যের সঙ্গে বিন্দুমাত্র দ্বিমত করবেন না। ওলিসে মাঠজুড়ে এতটাই দুর্দান্ত খেলছেন যে, ফুটবল ইতিহাসের দুই মহানায়ক পেলে ও লিওনেল মেসির দুটি ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। এমনকি ইতিমধ্যেই তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তির এক অনন্য কীর্তি।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট বা গোল বানিয়ে দেওয়ার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ক্রীড়া তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘অপ্টা’। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট পেলের দখলে। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেলেসাওদের হয়ে পেলে সতীর্থদের দিয়ে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করিয়েছিলেন।
পেলের এই চূড়ার ঠিক নিচে ৫টি করে অ্যাসিস্ট নিয়ে অবস্থান করছেন একঝাঁক কিংবদন্তি। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের রবার্ত গাদোচা, ১৯৮২ বিশ্বকাপে জার্মানির পিয়েরে লিটবারস্কি, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির থমাস হাসলার এক আসরে ৫টি করে গোল বানিয়েছিলেন। সুইডেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে এই কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন ওলিসে। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর মোট অ্যাসিস্ট এখন ৫টি। অপ্টা মূলত ১৯৬৬ সালের পর থেকে নিখুঁতভাবে এই পরিসংখ্যান হিসাব করে আসছে। শেষ ১৬-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। সেই ম্যাচেই ওলিসের সামনে সুযোগ থাকছে পেলেকে ছুঁয়ে ফেলার কিংবা ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস লেখার।
পেলের পাশাপাশি আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির একটি বড় রেকর্ডও এখন ওলিসের হাতছানি দিচ্ছে। এক মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩৪টি অ্যাসিস্টের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে লিওনেল মেসি ও স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হুয়ান মাতার। মেসি এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন ২০১১-১২ মৌসুমে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে। আর হুয়ান মাতা ২০১২-১৩ মৌসুমে চেলসি ও স্পেনের হয়ে এই রেকর্ডে ভাগ বসান। এই তালিকার ঠিক পরে ২০১০-১১ মৌসুমে ৩৩টি অ্যাসিস্ট নিয়ে অবস্থান করছেন সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল।
সুইডেনের বিপক্ষে কালকের ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্টের পর বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে এই মৌসুমে ওলিসের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২-এ। রেকর্ড বইয়ের চূড়ায় বসতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র দুটি অ্যাসিস্ট, আর তিনটি করতে পারলে তিনি মেসি ও মাতাকে ছাড়িয়ে এককভাবে ফুটবল ইতিহাসের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক বনে যাবেন। ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলিসে যেভাবে প্রতি ম্যাচে সুযোগ তৈরি করছেন, তাতে পেলে ও মেসির এই যুগান্তকারী রেকর্ড ওলিসের পায়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
মন্তব্য