,

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রধারী ৭-৮ জনের একটি দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় তারা নগদ প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। ডাকাতেরা যাওয়ার সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে সৌদি আরবপ্রবাসী জমির আলম এবং তাঁর ছোট ভাই মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে ডাকাতেরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, রাতে বাড়ির সামনে রাখা নিজের মোটরসাইকেলটি ঠিক আছে কি না, তা দেখতে তিনি বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে তিনি কাছের একটি দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি সাদা রঙের একটি হায়েস গাড়িকে দ্রুতগতিতে সড়ক দিয়ে চলে যেতে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে পরিচয় জানতে চান। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজনকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয়।

রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁদের পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে গিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। একপর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে বাড়ির দিকে নিয়ে যায়। এরপর ৭-৮ জনের একটি দল অস্ত্র হাতে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে কাউকে কোনো ধরনের শব্দ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেউ বাধা দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতেরা প্রথমে রেজাউল করিমের কক্ষে ঢুকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এরপর তাঁর বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে প্রবেশ করে আরও আড়াই লাখ টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, তাঁর স্বামী রাতে মোটরসাইকেল দেখতে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও সঙ্গে ছিল মুখোশপরা কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি। তাঁদের দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ডাকাতেরা সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। পরে তারা সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। ফলে ঘটনার সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ পাওয়া নাও যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, ডাকাতেরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার খুলে দিতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে তাঁর গলার চেইন ও কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয়। পরে আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। পুরো ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলে জানান তিনি।

ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তামিমের দাবি, এ এলাকায় এর আগেও অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক বছর আগে একই এলাকার আশপাশের দুটি বাড়ি থেকে অস্ত্রধারীরা ছয়টি গরু নিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, ডাকাত দলের ব্যবহৃত হায়েস গাড়ি, ঘটনার আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচল এবং আশপাশের স্থাপনায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। বাড়ির নিজস্ব সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়া হলেও আশপাশের দোকান, সড়ক বা অন্যান্য স্থাপনায় থাকা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা গেলে ডাকাতদের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয় বা গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।