দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৯৬৪ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ২৫৭ জনকে সন্দেহজনক হামরোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৯২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৩৮ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও এক লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হওয়া এবং সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকা শিশুস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এক দিনে ১,২৫৭ সন্দেহজনক রোগী
গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যেও সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। এক দিনে ১ হাজার ২৫৭ জনকে সন্দেহজনক হামরোগী হিসেবে শনাক্ত করা হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে ৯২ জনের হাম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯২। বিপরীতে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৭৩৮। সন্দেহজনক রোগী বলতে সাধারণত হামের উপসর্গ থাকা এমন রোগীদের বোঝানো হয়, যাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষা বা চিকিৎসা মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত বা বাতিল হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামেই ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬৪ জনে পৌঁছেছে। ফলে দুই হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জন।
শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেওয়া এর পরিচিত লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে উচ্চ জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখাও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনের নতুন রোগী ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চিকিৎসা নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১০ জন রোগীর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে একই সঙ্গে নতুন করে সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা থাকায় শিশুদের অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরিসংখ্যান সামনে আসায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরও বাড়তি গুরুত্ব থাকছে।








