মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটিতে পৃথক দুটি ধারায় আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, ওয়াহেদুল ইসলাম, জাফর উল্লাহ, জহুরুল হক ও রেজাউল করিম তরফদার। এ ছাড়া প্লট গ্রহীতা শওকত আজীজ ও আশফাক আজীজকেও কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেন। বৈধ আবেদনকারীদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের জামানত প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এবং তাঁদের আবেদন বাতিল হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর অংশ হিসেবে দুই ব্যক্তিকে মোট ১০ কাঠা আয়তনের দুটি প্লট বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে সংশ্লিষ্ট দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। ফলে আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া বরাদ্দের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অনুপস্থিত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া থেকে ধারণা করা যায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খন্দকার শামিম হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পূর্বাচল আবাসন প্রকল্প রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রতিরোধেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে এ মামলার রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।









