জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

পুনর্ভবা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

দিনাজপুর শহরের মাহুতপাড়া এলাকায় পুনর্ভবা নদীতে গোসল করতে নেমে রিফাত নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে নামার পর নিখোঁজ হয় সে। প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত রিফাত দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিমনগর ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকার কিছুক্ষণ বাজার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলামের ছেলে। সম্প্রতি চিরিরবন্দর উপজেলার বানিয়াখারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। স্বজন ও স্থানীয়দের কাছে রিফাতের এমন আকস্মিক মৃত্যু গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিফাত দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর শহরের মাহুতপাড়া এলাকায় পুনর্ভবা নদীতে গোসল করতে যায়। কিছুক্ষণ পর তিন বন্ধু পানিতে থাকা অবস্থায় রিফাত ও তার বন্ধু ইনসান পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তীরে থাকা অপর বন্ধু চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সাহায্যের জন্য ডাকেন।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাদের সহায়তায় ইনসানকে নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের পর তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু রিফাতকে তখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে নদীতে নেমে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। নদীর পানিতে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান না মেলায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে তৎপরতা শুরু করে। সন্ধ্যার পর রংপুর থেকে ডুবুরি দল সেখানে আসে। এরপর নদীতে নেমে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

সোমবার ভোরে আবারও নদীতে তল্লাশি শুরু করেন ডুবুরিরা। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর সকালে রিফাতের মরদেহ নদীতে ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সন্তানের মরদেহ দেখে স্বজনদের কান্নায় সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি আবারও বর্ষাকালে নদী ও খোলা জলাশয়ে গোসলের সময় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। নদীর পানির গভীরতা সব জায়গায় এক রকম থাকে না। কোথাও অগভীর মনে হলেও কয়েক হাত দূরেই গভীর গর্ত বা প্রবল স্রোত থাকতে পারে। বিশেষ করে পানিতে নামার আগে নিরাপদ স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সাঁতার জানা থাকলেও নদীতে গোসলের সময় বিপদ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। নদীর স্রোত, পানির গভীরতা ও তলদেশের অবস্থার পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন যে কেউ। পাশাপাশি একসঙ্গে কয়েকজন পানিতে নামলেও বিপদের মুহূর্তে একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্যরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

রিফাতের মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, নদীতে গোসলের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তারও একটি বেদনাদায়ক স্মারক। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীতে নামার আগে নিরাপদ স্থান নির্বাচন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এড়িয়ে চলা জরুরি। কেউ পানিতে বিপদে পড়লে প্রশিক্ষণ ছাড়া সরাসরি নদীতে ঝাঁপ না দিয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর