নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কাউয়ালিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় এক ভাই বিদ্যুতায়িত হলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর ভাইও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুই শিশু হলো কাউয়ালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোয়াদ মিয়া (৭) ও আরাফাত মিয়া (৫)। তারা সম্পর্কে আপন দুই ভাই। অল্প বয়সী দুই সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকাহত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই ভাই বাড়ির আঙিনায় খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী নুরেছা খাতুনের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিং তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই তারের সংস্পর্শে এসে এক ভাই বিদ্যুতায়িত হয়।
ভাইকে বিপদে পড়তে দেখে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে অপর শিশু। কিন্তু তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে। এতে দুই ভাইই গুরুতরভাবে বিদ্যুতায়িত হয়। ঘটনাটি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে দুজনকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কী কারণে আর্থিং তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আর্থিং তারে বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণ অনুসন্ধান জরুরি
বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আর্থিং একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে বিপজ্জনক বিদ্যুৎ নিরাপদ পথে মাটিতে প্রবাহিত হতে সহায়তা করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু আর্থিংয়ের তারে অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারের ত্রুটি, ভুল সংযোগ কিংবা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার অন্য কোনো সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তার ও বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
গ্রামাঞ্চলে বাড়িঘরের আঙিনা, চলাচলের পথ কিংবা শিশুদের খেলার জায়গার কাছাকাছি বৈদ্যুতিক তার থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কোনো তার ছেঁড়া, খোলা বা বিদ্যুতায়িত হওয়ার সন্দেহ দেখা দিলে সেটি স্পর্শ করা কিংবা নিজে থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং নিরাপদ দূরত্বে থেকে অন্যদের সতর্ক করতে হবে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে উদ্ধারকারীরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপদ উপায়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করা এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।
কাউয়ালিকান্দা গ্রামের এ দুর্ঘটনা বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিশুদের চলাচল ও খেলার জায়গার আশপাশে থাকা তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি প্রতিরোধে সহায়তা মিলতে পারে।









