নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের আঙুল ছুরি দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি শিশুটির পরিবারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন ঢাকার জনতা ব্যাংকের একটি লোকাল শাখায় সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দুই শিশু খেলাধুলা করার সময় একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দুই শিশুর মায়ের নজরে আসে এবং তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঘটনার মীমাংসা করে দেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তবে তার অভিযোগ, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কনস্টেবল শাকিল তার ছেলেকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। ওই সময় শাকিলের স্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
শিশুটির বাবা বলেন, তার অবুঝ সন্তানের সঙ্গে এমন আচরণ তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, আঙুল কাটার অভিযোগ ওঠার পর ওই কনস্টেবল শিশুটির বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি পুলিশ সুপারের কাছে জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে কনস্টেবল শাকিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে কোনো পক্ষের দাবিকেই তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কনস্টেবল শাকিলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আট বছর বয়সী কোনো শিশুর ধর্ষণের ঘটনা বা এ ধরনের কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে তার জানা নেই।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে শিশুটির পরিবার যেমন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, তেমনি পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে শিশুটির চিকিৎসা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই এখন প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।









