,

নাঙ্গলকোট-মনোহরগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা গ্রাম এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের লোকজনের মধ্যে জামাইর দোকান এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের এক ব্যক্তি আপত্তিকর কথা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে ওই সময় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে হাতিমারা গ্রামের একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুঁজকরা গ্রামে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের হাতে পিস্তল, চাপাতি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম জানান, সকালে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এলাকায় এসে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাট চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা কারখানায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় এবং অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে কয়েকজনের ওপর হামলা করা হয়। এতে পুঁজকরা গ্রামের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে হাতিমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল পাল্টা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করার পর বৃহস্পতিবার সকালে মাইকিং করে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালায় বলে তার অভিযোগ।

রুবেলের দাবি, হামলার সময় বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বাধা দিতে গেলে হাতিমারা গ্রামের লোকজনের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তাদের গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জের পাশাপাশি লাকসাম থানার পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর এলাকায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রধারীদের পরবর্তী সময়ে শনাক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। এলাকায় নতুন করে কোনো সংঘাত যাতে না ছড়ায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।