খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

নাটোরে এক মাস আগে হামলার শিকার হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। নলডাঙ্গা উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে মারধরের ২৬ দিন পর তাঁর এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সরাসরি দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম হামিদুর রহমান ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। তিনি নলডাঙ্গা উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাজনীতিতে তিনি নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় কালীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামের পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামিদুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর প্রায় এক মাস আগে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর গত ৩ জুন বিকেলে কালীগঞ্জ বাজারে গেলে সেখানে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। হামলায় তাঁর দুই পা ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হয়ে চলাফেরার সক্ষমতা হারান। পরে তাঁকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, হামিদুর রহমান আগে থেকেই একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। একজন প্রতিবন্ধী মানুষের ওপর এমন নির্মম অত্যাচার করা হলেও নলডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এক ধরণের বিচারহীনতার পরিবেশের মধ্যেই এই নেতার মৃত্যু হলো। এই ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
হামলার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হামিদুর রহমানকে মারধরের ঘটনার সাথে বিএনপি বা আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এই সরকারের আমলে তাঁকে কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংবা তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ কী, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মৃত্যুর ঘটনাকে বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
এদিকে এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে তৎপর রয়েছে পুলিশ। হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, হামিদুর রহমানকে মারধরের ঘটনা বা তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে এ পর্যন্ত থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য