নরসিংদীতে পোলট্রি ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

 

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক পোলট্রি ব্যবসায়ীর লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আজীমুল কাদের ভূঁইয়া (৪৫) বেলাব উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আজীমুল কাদের তার পোলট্রি খামারে অবস্থান করছিলেন। রাত ৮টার দিকে খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা তাকে নানা স্থানে খুঁজে না পেয়ে পরদিন বেলাব থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা ডোবায় একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ জানান, লাশে কান ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের দাবি, নিখোঁজের প্রায় ১৫ দিন আগে আজীমুল খামারে দুজন নতুন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলেন, যাদের একজনের ডাকনাম রুবেল। নিখোঁজ হওয়ার পর ওই দুই শ্রমিকও অদৃশ্য হয়ে যান এবং খামারের সব মুরগি উধাও হয়। পরিবারের ধারণা, আজীমুলের মৃত্যু ও শ্রমিকদের অদৃশ্য হওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।

নরসিংদী পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিখোঁজ শ্রমিকদের খুঁজে বের করা, লাশের আঘাতের প্রকৃতি বিশ্লেষণ এবং হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তৎপর। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনায় আতঙ্কিত এবং শোকাহত।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল:

বিষয়তথ্য
নিহতের নামআজীমুল কাদের ভূঁইয়া
বয়স৪৫ বছর
গ্রামের ঠিকানাবীর বাঘবের, বাজনাব ইউনিয়ন, বেলাব, নরসিংদী
পেশাপোলট্রি ব্যবসায়ী
রাজনৈতিক পরিচয়সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ; সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগ
নিখোঁজ হওয়ার সময়মঙ্গলবার, রাত ৮টা
লাশ উদ্ধারবৃহস্পতিবার, রাত ৯টা, বীর বাঘবের এলাকার ডোবা থেকে
সন্দেহভাজনখামারের দুজন শ্রমিক (একজন ডাকনাম: রুবেল)
আঘাতের চিহ্নকান ও পায়ে আঘাতের কালো চিহ্ন ও ক্ষত

পুলিশের অনুসন্ধান চলমান থাকায় ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে এলাকায় আতঙ্ক এবং শোকের ছায়া এখনো বিরাজ করছে।