জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোররাতে কুইন্সটাউনের একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানের ভেতরে থাকা বাংলাদেশিরা বের হতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় ও তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায়, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আহত ব্যক্তির অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। আগুনের কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিরা বসবাস করে আসছেন। দেশটির বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে বাংলাদেশি প্রবাসীরা দোকান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ধরনের পেশায় যুক্ত রয়েছেন। অনেকেই ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং নিজেদের কর্মস্থলেই বসবাস করেন। ফলে দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কুইন্সটাউনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ছয় বাংলাদেশির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করতে পারেন।
এ ঘটনায় আহত বাংলাদেশির দ্রুত সুস্থতার জন্যও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হলে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
মন্তব্য