,

রাজপথের সংগ্রাম থেকে নীতিনির্ধারণী সভা: ‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়া চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের পরিচয় কেবল কোনো রাজনৈতিক দল, পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার বলয়ে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। তাঁদের পুরো জীবনটাই হয়ে ওঠে একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিচ্ছবি, রাজপথের সংগ্রামের মহাকাব্য এবং আদর্শের উত্তরাধিকার। অগ্নিঝরা বক্তৃতা, আপসহীন মনোভাব, রাজনৈতিক সাহস, কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও চরম অনাড়ম্বর জীবনযাপনের মাধ্যমে তেমনই এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়া চৌধুরী। আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৪২ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করা মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ষাটের দশকে, ছাত্রআন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরাচার, সামরিক শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যখন পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছিল, তখন তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী প্রগতির অন্যতম অগ্রগামী কণ্ঠস্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর দৃপ্ত উপস্থিতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠের প্রতিবাদের কারণেই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘অগ্নিকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংসদীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখেন। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি দৃঢ়তা ও কর্মনিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
বিশেষ করে, একাধিক মেয়াদে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে সার ও বীজ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে কঠোর ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। কৃষকের কল্যাণে নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিতি পান ‘কৃষকের মতিয়া’ হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও সংসদীয় উপনেতার মতো রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও মতিয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাদা-মাটা। ব্যক্তিগত আড়ম্বর ও ক্ষমতার প্রদর্শন থেকে নিজেকে দূরে রেখে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা এই নেত্রী রাজনৈতিক সততা ও নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে রাজপথ ও সংসদের এই চিরসংগ্রামী ব্যক্তিত্বকে।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।