,

ঢামেকে চিকিৎসাধীন নারায়ণগঞ্জের কারাবন্দি যুবকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন মো. সজীব আহমেদ (২৫) নামে এক কারাবন্দি। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল কুদ্দুস।

সজীব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. সানাউল্লাহর ছেলে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন সজীব। কারাগারের ভেতরে থাকা হাসপাতালেই তার প্রাথমিক চিকিৎসা চলছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সজীবের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তার অবস্থা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সজীবের শারীরিক ওজন বেশি ছিল। পাশাপাশি তার রক্তচাপজনিত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। অসুস্থতার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সজীবের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাটিও একটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ জুলাই ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছিল, ওই সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে প্রথমে কারা হাসপাতাল বা নির্ধারিত চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সজীবের ক্ষেত্রেও প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে সজীবের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার কী ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তার চিকিৎসায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। জেল সুপারের বক্তব্যে অতিরিক্ত ওজন ও রক্তচাপজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক চিকিৎসাগত কারণ আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে সজীবের মৃত্যুর খবর তার পরিবারের সদস্যদের কীভাবে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ হস্তান্তর বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। কারাবন্দির মৃত্যু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়াও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়ার কথা।

সজীবের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান ছিল। তার মৃত্যুর পর এসব মামলায় আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। একই সঙ্গে কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভুক্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হবে।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সজীবকে কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়নি; বরং প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত চিকিৎসাগত কারণ, চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং মৃত্যুর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনাটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।