ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়েটিংরুমের পাশ থেকে আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগে তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে সেখানে পৌঁছান কিংবা কে বা কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী। তিনি জানান, অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিষয়টি হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হয়।
খবর পেয়ে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ কাজে প্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে তার পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মৃত্যুর কারণ নিয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে আনার সময় তিনি অচেতন ছিলেন—এটুকু জানা গেলেও কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুলিশ কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি। ফলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান করাও সমীচীন নয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ও আহত মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে স্বজন, পথচারী কিংবা অন্য কেউ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়পত্র বা স্বজন না থাকলে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এ ক্ষেত্রেও ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওই মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো তথ্য পুলিশ জানায়নি। তাই পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।









