ঢাকায় একাধিক ভূমিকম্প, নরসিংদীতে কম্পনের কারণ জানা গেল !

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ১৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১ রিখটার স্কেলে এবং এর উৎপত্তি স্থল নির্ধারিত হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরে। কম্পন অনুভূত হওয়া অঞ্চলের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, “গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় অন্তত সাতবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়বারের উৎপত্তি একই স্থানে, নরসিংদীতে। আমরা এগুলোকে মূল ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশক হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে ভবিষ্যতে এর প্রকৃতি বা তীব্রতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।”

তিনি আরও জানান, “আফটারশক সাধারণত মূল ভূমিকম্পের পর ঘটে। এই কম্পনের তীব্রতা সরাসরি জীবন-জরুরি অবকাঠামোতে বড় ক্ষতি আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। তবে নাগরিকদের সতর্ক থাকা অপরিহার্য।”

ঢাকার দক্ষিণাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য মোট ৩২টি এলাকা পরীক্ষা করা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং উদ্ধার কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ সচেতনতা, প্রস্তুতি ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ জরুরি।

নিম্নলিখিত টেবিলে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও তাদের ঝুঁকির স্তর তুলে ধরা হলো:

এলাকাঝুঁকির স্তরমন্তব্য
উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, রমনা, শাহবাগ, আজিমপুর, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, পল্লবী, কল্যাণপুর, মিরপুর, গাবতলীউচ্চঘনবসতি এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ঝুঁকি বেশি
কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, মানিকদী, গাবতলীমধ্য থেকে উচ্চকিছু পুরনো কাঠামো রয়েছে, যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূমিকম্পের পর নিরাপদ স্থানে থাকা, পুরনো ও দুর্বল কাঠামোর কাছ থেকে দূরে থাকা, এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পূর্বপ্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোও এ ধরণের ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সচেতন করতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ এবং জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। নাগরিকদেরও উচিত নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো হঠাৎ কম্পনের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আফটারশক চলতেই পারে। তাই প্রতিটি বাসিন্দা নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।