,

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মাসের প্রথম ১৬ দিনেই এ রোগে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৭ জন। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। ফলে নতুন ভর্তি রোগীর তুলনায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকলেও সামগ্রিaকভাবে রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অক্টোবরের প্রথমার্ধেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৯৭ জন।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বছরের শুরুর তুলনায় পরবর্তী মাসগুলোতে ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী প্রভাব অনেক বেশি ছিল। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়াল ১ লাখ ১০ হাজার

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। তাঁদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৭২ জনের বিপরীতে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। তবে হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড় পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে গেছে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, রোগীদের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কারও জ্বরের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৬৫। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ। বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো—

বিভাগগত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি
ঢাকা৮৬৫ জন
চট্টগ্রাম২৬০ জন
খুলনা২৩৩ জন
বরিশাল১৯০ জন
রাজশাহী১৭৩ জন
ময়মনসিংহ৬৭ জন
রংপুর৫৯ জন
মোট১,৮৪৭ জন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সাত বিভাগের সংখ্যা যোগ করলে মোট ১ হাজার ৮৪৭ জন হয়, যা সারাদেশে নতুন ভর্তি রোগীর ঘোষিত সংখ্যা ১ হাজার ৮৭২ জনের চেয়ে ২৫ জন কম। অর্থাৎ, প্রদত্ত বিভাগভিত্তিক হিসাব ও মোট সংখ্যার মধ্যে ২৫ জনের পার্থক্য রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ হিসাবের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিরোধে প্রয়োজন নিয়মিত সতর্কতা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার বংশবিস্তার রোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশের খোলা স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফুলের টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পানি জমার উপযোগী বস্তু নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। মশারি, মশা প্রতিরোধক উপকরণ এবং শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি।

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৩৪২ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি নিয়মিত মশা নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।