দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১৫৭ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে, ফলে এ বছর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৭ জনে পৌঁছেছে।
বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুইজনই ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। তারা সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বসবাস করতেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরের এই সময়টিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে রোগীর চাপও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১৫৭ জন রোগীকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৩১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৯১৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১৯ জন। এতে বোঝা যায়, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশের এলাকায় কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকেই ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নাগরিকদের জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা অন্যান্য ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।









