,

অন্যকে দেখে শেখো, তবে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ো না: শান

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শানের জন্মদিন আজ। মিষ্টি সুর, রোমান্টিক গান এবং সাবলীল গায়কির জন্য শ্রোতাদের কাছে পরিচিত এই শিল্পী দীর্ঘ সংগীতজীবনে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। জন্মদিনের এই সময়ে তাই তার সংগীতজীবনের পাশাপাশি স্বকীয়তা নিয়ে দেওয়া একটি পুরোনো বক্তব্যও নতুন করে সামনে এসেছে।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে শানের সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। ‘গেম চেঞ্জার্স উইথ কমল নাহতা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অন্যের কাছ থেকে শেখা উচিত, তবে শেষ পর্যন্ত নিজের কণ্ঠ বা নিজস্ব পরিচয় খুঁজে নিতে হবে।

শানের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—শেখা এবং অনুকরণ এক জিনিস নয়। একজন শিল্পী তার পছন্দের গায়ক কিংবা সৃষ্টিশীল মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন। তাদের কাজ পর্যবেক্ষণ করে কণ্ঠের ব্যবহার, পরিবেশনার ধরন, সুরের সঙ্গে আবেগের সংযোগ এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই শিক্ষাকে হুবহু অনুসরণ করলে নিজের স্বাতন্ত্র্য তৈরি করার সুযোগ কমে যায়।

অন্যের কাজ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে নিজের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন কিছু তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ—শানের বক্তব্যে এমন ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, অনুপ্রেরণা একজন মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আলাদা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের যুগে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য গান, ভিডিও, ছবি, পোশাক, জীবনযাপন ও সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। কোনো কিছু ভালো লাগলে সেটি অনুসরণ করার প্রবণতাও তৈরি হয়। কিন্তু জনপ্রিয় কোনো প্রবণতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে নিজের পছন্দ, অভিজ্ঞতা কিংবা স্বাভাবিক প্রকাশভঙ্গি অনেক সময় আড়ালে চলে যেতে পারে।

সংগীতের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা রয়েছে। নতুন শিল্পীরা প্রতিষ্ঠিত গায়কদের গান শুনে অনুপ্রাণিত হন, তাদের কাছ থেকে শেখেন এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এটি শিল্পী হয়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে হলে নিজের কণ্ঠ, অনুভূতি ও পরিবেশনার ধরনকে গুরুত্ব দিতে হয়।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডিজিটাল কনটেন্টের ব্যাপক বিস্তারের কারণে মৌলিকতার প্রশ্নটিও আরও আলোচিত হচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা ও পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে। এমন সময়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি একটি কাজকে আলাদা করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে পারে।

শানের নিজের ক্যারিয়ারও বহুমাত্রিক। তিনি মূলত হিন্দি গানের জন্য পরিচিত হলেও বাংলা, কন্নড় ও তেলুগু ভাষাতেও গান গেয়েছেন। ২০০০-এর দশকে তার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তাকে ভারতীয় শ্রোতাদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে। রোমান্টিক ও মেলোডিয়াস গানে তার কণ্ঠ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু সংগীত নয়, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও অভিনয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শান। বিনোদনজগতের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং তিনটি আইফা পুরস্কারও পেয়েছেন।

তবে পুরস্কার ও জনপ্রিয়তার বাইরে শানের বক্তব্যের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের কাছ থেকে শেখা একজন শিল্পীর দক্ষতা বাড়াতে পারে, নতুন চিন্তার দরজা খুলে দিতে পারে এবং সৃষ্টিশীলতার পথ দেখাতে পারে। কিন্তু সেই শেখাকে নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় ব্যক্তিগত স্বর।

শানের জন্মদিনে তাই তার সংগীতজীবনের পাশাপাশি স্বকীয়তার সেই বার্তাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্যের সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়; তবে নিজের পরিচয় তৈরি করতে হলে শেষ পর্যন্ত নিজের কণ্ঠকেই খুঁজে নিতে হয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।