ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি ও দুর্নীতি কমাতে দেশে আসছে পেপ্যাল: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, পেপ্যালের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা দেশে চালু হলে ডিজিটাল লেনদেন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা কমবে। তিনি বলেন, দেশের দুর্নীতির একটি বড় উৎস হলো নগদ লেনদেন। তাই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রচলন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

গভর্নর আরও জানান, পেপ্যাল বর্তমানে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হয় এবং এটি অনলাইনে অর্থ পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধসহ আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় ব্যবহার করা একটি নিরাপদ এবং দ্রুত মাধ্যম। এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরও গতিশীলতা পাবেন, এবং ব্যবসা প্রসারিত করতে সক্ষম হবেন।

পেপ্যালের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্যব্যাখ্যা
নিরাপদ লেনদেনব্যাংক বা কার্ড সংযুক্ত হয়ে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়
বিশ্বব্যাপী ব্যবহার২০০+ দেশে পেমেন্ট সেবা প্রদান
সুরক্ষা সুবিধাক্রেতা ও বিক্রেতার জন্য রিফান্ড সুবিধা
উদ্যোক্তা সহায়তাবৈদেশিক বাজারে সহজ প্রবেশ এবং লেনদেনের সুবিধা

ড. মনসুর উল্লেখ করেন, প্রতি বছর দেশকে টাকা ছাপানো ও নগদ পরিচালনায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। তাই নগদ লেনদেন কমানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, কৃষিখাতে ঋণের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে মোট ঋণের মাত্র ২ শতাংশই কৃষিতে যাচ্ছে, যা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা উচিত, যাতে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো যায়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে অবদান রাখায় ৮ জন ব্যক্তি এবং ৩ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। গভর্নর এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে পেপ্যালের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু হলে, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজতর হবে, এবং নগদ নির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাবে।