জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ডলারের দাম কমে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের বিস্তারের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ নানা ক্ষেত্রে প্রতিদিনের মুদ্রাবাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কিছুটা কমে আগের অবস্থানে ফিরেছে।

আজ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। গত মাসে ডলারের দাম একপর্যায়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় উঠেছিল। ফলে মাসের শুরু ও শেষের দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেলেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে আবার তা ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শুরুতে আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৮৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল ছিল। পরে বাজার পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছায়। বর্তমানে সেই বাড়তি চাপ কিছুটা কমে এসেছে।

গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যেও ডলারের বিনিময় হার সমন্বয় করা হয়েছিল। এর ফলে মাসজুড়ে গড়ে ডলারের দর প্রায় ১ টাকা বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকায় বাজারে ডলারের দামে আবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আজকের সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার অবস্থান হলো—

মুদ্রার নামবাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার
মার্কিন ডলার১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো১৪২ টাকা ৭০ পয়সা
পাউন্ড১৬৬ টাকা ৪২ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার৮৮ টাকা ৬৬ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৮ টাকা ০৩ পয়সা
চীনা ইয়েন১৮ টাকা ২৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার৯৬ টাকা ৬১ পয়সা
ভারতীয় রুপি১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত৩০ টাকা ৪২ পয়সা
সৌদি রিয়াল৩২ টাকা ৫৪ পয়সা
কাতারি রিয়াল৩৩ টাকা ৬২ পয়সা
কুয়েতি দিনার৩৯৭ টাকা ১৭ পয়সা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম৩৩ টাকা ৪৩ পয়সা

মুদ্রাবাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের পণ্য ও কাঁচামাল কেনার ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে ডলারের দর কিছুটা কমলে আমদানি নির্ভর ব্যবসায়ীদের বৈদেশিক লেনদেনের ব্যয়ে স্বস্তি তৈরি হতে পারে।

প্রবাসী আয়ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ে, যা বাজারের ওপর ডলারের অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ওপর নজরদারিও বিনিময় হারকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আনুষ্ঠানিক ও খোলাবাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান আগের তুলনায় কমে আসা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি চাহিদা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে এই হার আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।

ফলে আজকের ১২২ টাকা ৮৫ পয়সার দরকে স্থায়ী হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যাংক, বৈদেশিক লেনদেন ও বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দিনের মধ্যেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল হওয়ায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সর্বশেষ দর যাচাই করা প্রয়োজন।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর