জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিনবয় গ্রেপ্তার

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে চলন্ত ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই নারী মঙ্গলবার সান্তাহার জিআরপি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) এবং ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর রেলওয়ে পুলিশ আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তিনি নাটোরের আবদুলপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এজাহার ও রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর এলাকার ওই নারী রোববার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। তার গন্তব্য ছিল আত্মীয়ের বাড়ি। ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর স্টেশনে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনে অবস্থানের একপর্যায়ে ওই নারী খাবারের বগিতে যান। সেখানেই তার সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কীভাবে ওই নারীকে খাবারের বগিতে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনার পর অভিযুক্তদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মামলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ থাকলেও তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মামলায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়েছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্যও পর্যালোচনা করা হবে।

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ঘটনায়ও অভিযোগের সত্যতা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারা জড়িত ছিলেন এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল—তদন্ত শেষ হওয়ার পরই তা স্পষ্ট হবে।

আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মামলায় অভিযুক্ত অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর