,

ডলারের দর বাড়ল, কমেছে ইউরো-পাউন্ডসহ পাঁচ মুদ্রা

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে। বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন মুদ্রার দরে যে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, তার প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনেও।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬), সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দর কিছুটা নেমেছে। ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা। গড় দর ধরা হয়েছে ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ, গত কয়েক দিনের তুলনায় ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।

ডলারের এই অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, আন্তর্জাতিক সেবা বাবদ ব্যয় এবং বিভিন্ন আন্তদেশীয় লেনদেনে মার্কিন মুদ্রার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডলারের দরে সামান্য পরিবর্তনও আমদানি ব্যয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যান্য প্রধান মুদ্রার দরও কমেছে

আজকের বাজারে ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৩৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৭ টাকা ৯১ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার চীনের মুদ্রা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৩৭ পয়সা। অস্ট্রেলীয় ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৮৫ টাকা ৭৮ পয়সা। আর সিঙ্গাপুরি ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা।

অন্যদিকে ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের দর আজ স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ভারতীয় রুপির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ১ টাকা ২৭ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রেও ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সমান—প্রতি ইয়েন ৭৭ পয়সা।

আজকের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার দর

  • মার্কিন ডলার (USD): ক্রয় ১২৩.০০ টাকা, বিক্রয় ১২৩.১৫ টাকা; গড় দর ১২৩.১০ টাকা।
  • ইউরো (EUR): ক্রয় ১৩৭.৬৯ টাকা, বিক্রয় ১৩৭.৯১ টাকা।
  • ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP): ক্রয় ১৬২.৪৮ টাকা, বিক্রয় ১৬২.৭৭ টাকা।
  • ভারতীয় রুপি (INR): ক্রয় ও বিক্রয় উভয়ই ১.২৭ টাকা।
  • চীনা ইউয়ান (CNY): ক্রয় ১৮.৩৫ টাকা, বিক্রয় ১৮.৩৭ টাকা।
  • জাপানি ইয়েন (JPY): ক্রয় ও বিক্রয় উভয়ই ০.৭৭ টাকা।
  • অস্ট্রেলীয় ডলার (AUD): ক্রয় ৮৫.৬০ টাকা, বিক্রয় ৮৫.৭৮ টাকা।
  • সিঙ্গাপুরি ডলার (SGD): ক্রয় ৯৬.০৭ টাকা, বিক্রয় ৯৬.২৪ টাকা।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের দিকে নজর

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সময়ে আমদানি ব্যয়ের জন্য ডলারের চাহিদাও থাকে। ফলে এই দুই দিকের ভারসাম্য বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ডলারের দর তুলনামূলক বেশি থাকলে আমদানি করা পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ব্যবসা ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের ওপরও পড়ার সুযোগ থাকে। বিপরীতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, যা বাজারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও বাজারভিত্তিক করার উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিনিময় হারকে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দামের অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন মুদ্রার দরে আরও ওঠানামা হতে পারে। তবে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরির ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা তাই ডলারের সরবরাহ, আমদানি চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।