চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত একটি সভা ও দোয়া মাহফিলে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন আইনজীবীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে একটি বাসভবনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অভিযান চালানোর পর তাঁদের থানায় নেওয়া হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনজীবী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবার বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আইনজীবীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে রাতে ডবলমুরিং থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করে পরে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, অ্যাডভোকেট কামেলা খানম, অ্যাডভোকেট আয়েশা হেভেন, অ্যাডভোকেট সুজলা অন্তরা এবং অ্যাডভোকেট শারমিন ইয়াসমিন নিশুর নাম রয়েছে। অন্যরা হলেন ইস্কান্দার মির্জা, সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, শুভ আইচ, মশিউর রহমান আবির, জাকির হোসেন ও জীশু রায় চৌধুরী।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আইনজীবীর সংখ্যা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম রোববার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার রাতে থানার আওতাধীন একটি স্থান থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই থেকে তিনজন আইনজীবী রয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ আইনজীবীদের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ওসি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ঘটনা সম্পর্কে মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখা থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে কিংবা কোন কোন আইনি ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযানের আইনি ভিত্তি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম আদালত এলাকাতেও বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে থাকায় তখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছেন না। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি তারিক আহমদও জানান, তিনি সমিতির সব সদস্যের সভাপতি হিসেবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করতে না পারলেও পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বাড়তি নজরদারি দেখা গেছে। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে কোনো সভা, স্মরণ অনুষ্ঠান বা সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ডবলমুরিংয়ের ঘটনাটিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাঁদের বর্তমান আইনগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কি না, হলে কোন আইনে মামলা হয়েছে এবং আদালতে তাঁদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়—এসব তথ্য প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগ ও নির্দিষ্ট ধারাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে গ্রেপ্তারের কারণ, আইনগত ভিত্তি এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত ঘটনাটি ঘিরে মূল নজর রয়েছে পুলিশি প্রক্রিয়া, আদালতে উপস্থাপন এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থানের দিকে।









