ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি ঘিরে অনিশ্চয়তায় শেয়ারবাজারে দোলাচল

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন ঘোষণা প্রত্যাশা করায় মঙ্গলবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে দামের ওঠানামা দেখা গেছে। এদিকে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতির ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়ায় ইয়েনের দরও বেড়েছে।

হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি থাকায় ওয়াল স্ট্রিট বন্ধ ছিল। তবে ট্রাম্পের ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি এবং পরে সেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের হঠাৎ হঠাৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কর ছাড়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরাচ্ছে। ফলে, সরকারি বন্ডের সুদের হারও বাড়ছে। এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেস মন্তব্য করেন, “মার্কেট যেন গরম কয়লার ওপর চলছে। হোয়াইট হাউসের মনোভাবের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।”

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তির আশ্বাস দেওয়ার পর ট্রাম্প শুল্ক কার্যকর করা পিছিয়ে দেন। এতে ইউরোপের বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও এশিয়ার বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা, ম্যানিলা এবং ওয়েলিংটন বেড়েছে, অন্যদিকে টোকিও, সাংহাই, সিউল এবং তাইপেই কিছুটা কমেছে।

ইয়েনের দর বৃদ্ধি:

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানিয়েছেন, অর্থনীতি প্রত্যাশিতভাবে এগোলে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে আনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

উয়েদা বলেন, “বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে ২ শতাংশ লক্ষ্যে ফিরে আসবে বলে আশা করছি।” তার এই মন্তব্যের পর ইয়েনের দর বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১৪২.১২, যা আগের দিনের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থান।

ডলার দুর্বল:

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন অর্থনীতির গতি নিয়ে উদ্বেগ, উচ্চ বাজেট ঘাটতি ও ট্রেজারি ঋণ বাড়ার শঙ্কায় ডলারের ওপর চাপ বেড়েছে। পেপারস্টোনের বিশ্লেষক ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, “এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ডলারের দুর্বলতা বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন।”

২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ডলার বিক্রি করছেন। শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা এবং তার তারিখ পেছানোর ঘোষণাও ডলারের মানকে দোদুল্যমান করে রেখেছে।

এখন ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন, মে মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের, যেখানে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে সপ্তাহের শেষে প্রকাশিত হবে ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতির পরিমাপক ডেটা, যা বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।