টাঙ্গাইলে সুরমান রেজা (৫০) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সুরমান রেজা গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে। তিনি গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে দরুন এলাকার ওই পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করছিলেন সুরমান। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে হামলার পর ঠিক কতক্ষণ তিনি সেখানে ছিলেন কিংবা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। মহাসড়কের পাশে দিনের বেলায় একটি পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন, তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না এবং হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাটি ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
নিহতের ভাই হালিম রেজা জানান, সুরমান ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার ভাষায়, কীভাবে বা কেন এমন ঘটনা ঘটল, তারা কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে আঘাতের ধরন ও মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানা যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো হত্যার সম্ভাব্য কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং হামলার ধরনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সুরমানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় এবং তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো বিরোধের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তে উঠে আসতে পারে।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্যও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।









