চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পারিবারিক কলহের জেরে ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যা আনিকা খাতুনকে কীটনাশক খাওয়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তার মা সোনিয়া খাতুনের (৩০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোনিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আনিকা সেখানে চিকিৎসাধীন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের ঈদগাহপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে আনিকার বাবা আলামিন (৩৫) কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে স্ত্রী সোনিয়ার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনই লাঠি দিয়ে একে অপরকে আঘাত করেন।
পরে আলামিন বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে নিয়ে ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সোনিয়া ঘরে থাকা ঘাসপোড়ানো কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ১১ মাস বয়সী আনিকার মুখে ঢেলে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে শিশুটির দাদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, এ সময় তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তিনি আহত হন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু কিছু সময় পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য আনিকাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কীটনাশক গ্রহণের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিষক্রিয়ার মাত্রা কী ধরনের কীটনাশক গ্রহণ করা হয়েছে, কতটা শরীরে প্রবেশ করেছে এবং কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। শিশুরা শারীরিকভাবে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এমন ঘটনায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ জরুরি। আনিকার ক্ষেত্রেও বিষক্রিয়ার ধরন ও শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরাই নির্ধারণ করবেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মৃগমারী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়। মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। তবে পারিবারিক বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কি না, শিশুটিকে কীভাবে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সময় সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ঘটনায় সোনিয়া খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোনিয়া খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে শিশুটির চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। শিশুটির সুস্থতার বিষয়টিই এখন পরিবারের সদস্যদের প্রধান উদ্বেগ।









