,

টাকা দিতে না পারায় ট্রলি মেলেনি, অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যু

এক হাতে স্যালাইনের বোতল, মুখে অক্সিজেনের মাস্ক, আর কোলে চার বছরের মুমূর্ষু শিশু। পাশে এক স্বজনের হাতে ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার। এভাবেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে ছুটছেন কয়েকজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ার পর হাসপাতালের রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি ট্রলি প্রয়োজন ছিল।

তবে তাঁদের অভিযোগ, ট্রলি চাইলে হাসপাতালের কর্মচারীরা টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে কোলে তুলে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুটির অক্সিজেনের ব্যবস্থা সচল রাখতে একজনকে সিলিন্ডার এবং আরেকজনকে স্যালাইনের বোতল বহন করতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। শিশুটির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো। তাঁর সঙ্গে থাকা একজন ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার হাতে এবং অন্যজন স্যালাইনের বোতল নিয়ে ছুটছেন। হাসপাতালের ভেতরের এমন পরিস্থিতি দেখে স্বজন ও উপস্থিত কয়েকজনকে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।

শিশুটির স্বজনেরা দাবি করেন, সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত ট্রলি না পাওয়ায় তাঁকে কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। এ সময় ছোটাছুটি ও টানাটানির মধ্যে শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে সোমবার, ৫ অক্টোবর বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বজনদের পাশাপাশি সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে ট্রলি না পাওয়ার কারণে চিকিৎসা পেতে কোনো ধরনের বিলম্ব হয়েছিল কি না এবং সেই বিলম্ব শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত ছিল কি না, তা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ট্রলির জন্য টাকা দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু বর্তমানে পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। পরিচালক অবসরে যাওয়ার পর তিনি এ দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডুর দাবি, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সে অবস্থায় ট্রলিতে করে শিশুটিকে স্থানান্তর করা হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে নার্সরা মনে করেছিলেন। তাই শিশুটিকে ট্রলিতে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ফলে ঘটনাটি নিয়ে স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। স্বজনদের দাবি, টাকা দিতে না পারায় ট্রলি মেলেনি; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির শারীরিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই ট্রলি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং ওই সময় চিকিৎসা পেতে কোনো বিলম্ব হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, হাসপাতালের নথি ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হলে একদিকে যেমন স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে হাসপাতালের রোগী পরিবহন ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাপনাতেও কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা বোঝা যাবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।