ভারতীয় নারী ক্রিকেটে দীর্ঘ এক দশকের নেতৃত্বের ইতি টানলেন হারমানপ্রীত কৌর। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা সব সংস্করণে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন হারমানপ্রীত।
৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ভারতের এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘ পথচলায় পাওয়া স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এখন নতুনভাবে মাঠে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
হারমানপ্রীতের নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে। সে বছর ভারতীয় নারী টি-টোয়েন্টি দলের পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। মিতালি রাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পর ২০২২ সালে ওয়ানডে ও টেস্ট দলের নেতৃত্বও তাঁর হাতে আসে। এরপর তিনি তিন সংস্করণেই ভারতের নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০২৫ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারত প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। এর মধ্য দিয়ে হারমানপ্রীত ভারতের প্রথম নারী অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়েন। ভারতের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর নেতৃত্ব তাই বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ জয়ের পরও সাফল্যের ধারায় ছিল ভারত। ২০২৬ সালে হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে দল এশিয়া কাপের শিরোপাও জেতে। সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত রেকর্ড অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপ জেতে। এরপর জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও শিরোপা ধরে রাখে ভারতীয় দল। ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও স্বর্ণপদক জিতে তারা টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের সোনা নিশ্চিত করে।
অধিনায়ক হিসেবে হারমানপ্রীতের মেয়াদে ভারতীয় নারী ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক বড় সাফল্য পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ ম্যাচ খেলা প্রথম ক্রিকেটার হওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন। সেই সময়ও তিনি ভারতীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেও নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় হারমানপ্রীত জানিয়েছেন, নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর পথচলা থামছে না। এখন তিনি চাপমুক্তভাবে শুধু খেলাটির প্রতি ভালোবাসা থেকে মাঠে নামতে চান।
বিসিসিআইয়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। দীর্ঘ সময় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে একটি পরিবর্তনের পর্ব শুরু হলো। হারমানপ্রীতের উত্তরসূরি কে হবেন, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানার নাম সম্ভাব্য পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
হারমানপ্রীতের জন্য অবশ্য এটি বিদায়ের গল্প নয়। বরং অধিনায়কত্বের চাপ সরিয়ে একজন ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের শুরু। ভারতের হয়ে আরও কিছু সময় মাঠে থাকার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগোচ্ছেন। নেতৃত্বের ব্যস্ততা থেকে সরে গিয়ে এবার তাঁর সামনে থাকবে শুধু ব্যাট হাতে দলের জন্য অবদান রাখার চ্যালেঞ্জ।









