গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল টঙ্গীতে পৃথক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। গত রবিবার টঙ্গী পশ্চিম ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিনভর চলা অভিযানে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই পাঁচজনের মধ্যে কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অপর দিকে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার একটি স্থান থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। এই বার্তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— বড় দেওরা এলাকার মণ্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।
পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ফারুক ও আলামিন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া সাকিবুল হোসেন টঙ্গীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিহাবের কোনো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মতিন (৪৫) নামের অপর এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে কিংবা তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ শুরুতে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারেন কি না, তা আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশি অভিযানে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা মানেই তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ফলে বর্তমান আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে।









