জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন আহত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও তিনি আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বরিশালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহ আলম মোল্লার বয়স ৬৭ বছর। তিনি বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

শাহ আলম মোল্লার অভিযোগ, পরিবারের একটি ধর্মীয় আয়োজন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে তিনি চৌরাস্তা বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাঁর ডান পায়ে আঘাত করা হয়। এতে পায়ের গোড়ালি গুরুতরভাবে জখম ও ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। হামলায় মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত লাগে।

আহত শাহ আলমের পুত্রবধূ রুনা বেগম জানান, রোববার তাঁদের পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের জন্য কেনাকাটা করতেই শাহ আলম চৌরাস্তা বাজারে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত রুম্মান, তৌহিদ, দীন ইসলামসহ সাত থেকে আটজন ব্যক্তি সেখানে যান। তাঁরা প্রথমে শাহ আলমকে মারধর করেন এবং পরে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তাঁর ডান পায়ে আঘাত করেন।

রুনা বেগমের অভিযোগ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা বালিয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানের অনুসারী। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মজিবুর রহমান।

মজিবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় তাঁর কোনো লোক জড়িত নন। কারা শাহ আলমের ওপর হামলা করেছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করা এবং সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

হামলার পর স্থানীয়রা শাহ আলমকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর আঘাত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা কর্মকর্তা পলি সাহা জানান, শাহ আলমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। তবে তাঁর ডান পায়ের আঘাত গুরুতর। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেয়। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, আহত শাহ আলমকে দেখতে পুলিশের সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হামলার ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। এক পক্ষ হামলার জন্য প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কর্মীদের দায়ী করলেও অভিযুক্ত পক্ষ সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। বর্তমানে শাহ আলমের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | সাব-এডিটর । GLive24.com

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর