জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

জিয়া সৈনিক দলের কার্যালয়ে তালা ও দলীয় কোন্দল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে জিয়া সৈনিক দলের থানা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল অনুসারী এই কার্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় জিয়া সৈনিক দলের নেতাকর্মীদের অফিস থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মনির হোসেন সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন। সভা চলাকালীন গাজী মনির হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সেখানে অতর্কিতে প্রবেশ করেন। তারা জিয়া সৈনিক দলের সভাপতিসহ উপস্থিত নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করে অফিস থেকে বের করে দেন এবং সাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ভুক্তভোগী সভাপতি মনির হোসেন জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ গাজী মনির হোসেন এসে আমাদের শাসিয়ে বলেন যে, এখানে রাজনীতি করতে হলে মূল দলের নেতাদের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। আমি বিষয়টি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছি।”

বিবাদমান পক্ষ ও নেতৃত্বের অবস্থান

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত গাজী মনির হোসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, জিয়া সৈনিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নিচে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও তাদের অবস্থান তুলে ধরা হলো:

পক্ষ/ব্যক্তিপদবি ও পরিচয়অভিযোগ/অবস্থান
মনির হোসেনসভাপতি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিয়া সৈনিক দলঅফিস থেকে বের করে তালা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
গাজী মনির হোসেনসাবেক সভাপতি, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপিঅভিযোগ স্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদআহ্বায়ক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
আব্দুল বারিকভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিদ্ধিরগঞ্জ থানাবিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পাল্টা অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা

তালা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী মনির হোসেন গণমাধ্যমকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি দাবি করেন, জিয়া সৈনিক দলের এই সদস্যরা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে অফিসটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিপরীতে, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই ঘটনার দায়ভার এড়িয়ে গিয়ে জানান, তিনি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো খবর পাননি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উভয় পক্ষই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শরণাপন্ন হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এটি মূলত দলের অভ্যন্তরীণ একটি বিবাদ। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলার পর তারা সমঝোতার ভিত্তিতে তালা খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থানা ত্যাগ করেছেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেখানে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি, সেখানে নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের দলীয় কোন্দল সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর