জাপানে শুরু হয়েছে বছরের অন্যতম বড় ছুটির সময় ‘গোল্ডেন উইক’। তবে এবারে মুদ্রাস্ফীতি আর হোটেল ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির কারণে স্থানীয় পর্যটকদের ভ্রমণে আগ্রহ কমে গেছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে বিদেশি পর্যটকের ভিড়ে হোটেল ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেশটির মানুষ ঘরেই সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।
প্রতি বছর ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত চলা এই গোল্ডেন উইক জাপানের দীর্ঘতম ছুটিগুলোর একটি। প্রতিবছর এ সময় দেশজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অর্থনৈতিক চাপে জাপানি নাগরিকদের ব্যয় করার ক্ষমতা কমেছে। ২০২২ সালের পর থেকে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ায় খাদ্যপণ্য থেকে বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। ডেইলি নিক্কির এক জরিপ জানায়, হোটেল রুমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাঁচটি প্রধান শহরে হোটেল ভাড়া প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
এ অবস্থায় দেশি পর্যটকদের ভ্রমণ অনীহার প্রধান কারণ মুদ্রাস্ফীতিই বলে মনে করেন ইয়ামানশি ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম স্টাডিজের অধ্যাপক আতুশি তানাকা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই হোটেল মালিকরা ভাড়া কমানোর প্রয়োজন বোধ করছেন না। এতে স্থানীয় পর্যটকদের ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
জেটিবি নামের ভ্রমণ সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, এবারে গোল্ডেন উইকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন বা করতে পারেন — এমন মানুষের হার ২০.৯ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ কম। আর বিপণন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টেজ জানায়, এবছর মাত্র ১৩.৬ শতাংশ মানুষ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে যেতে আগ্রহী। অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াও অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলার প্রবণতাও এর পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবার যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের গড় ব্যয় গত বছরের তুলনায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ ডলারে। ইন্টেজের গবেষক মোতোহিরো শিমোগাওয়া বলেন, ‘অনেকেই এই অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।’
গত বছর জাপানে ৩৬.৮ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা ২০১৯ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ মিলিয়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দেশটির সরকার। তবে ইতালির ভেনিসের মতো, জাপানেরও জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের বাড়তি ভিড়, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ এবং অসভ্য আচরণের অভিযোগ বাড়ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
