খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের (প্রেসিডেন্সি) প্রার্থিতায় বাংলাদেশের পক্ষে মাল্টার সমর্থন চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মাল্টার অনাবাসিক হাইকমিশনার রিউবেন গওসি সাক্ষাৎ করতে এলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
Table of Contents
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পারস্পরিক সমর্থন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ ও মাল্টার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই মনে করেন, এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে মাল্টায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থিতা দেশের বৈশ্বিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করা বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
| বিষয় | আলোচনা ও অগ্রগতি |
|---|---|
| জাতিসংঘ প্রার্থিতা | ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে মাল্টার সমর্থন চাওয়া |
| রাজনৈতিক সহযোগিতা | দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার |
| বাণিজ্য ও বিনিয়োগ | ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের গুরুত্ব আলোচনা |
| শিক্ষা ও অভিবাসন | শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে অগ্রগতি |
| বৈশ্বিক ইস্যু | শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে মতবিনিময় |
উভয় দেশ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং পারস্পরিক স্বার্থে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
মন্তব্য