চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মঙ্গলবার আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, কোচ মাইকেল ক্যারিককে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী দল দিতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দল গঠনে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্সের কাছ থেকেও আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
মার্তিনেজের এমন মন্তব্যে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ও দল গঠনের কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
বিতর্কের পর গতকাল ক্লাবের নেতৃত্ব ও কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্তিনেজ। আলোচনায় মঙ্গলবারের ম্যাচের পর তাঁর বক্তব্য এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি উঠে আসে। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি এবং মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।
মার্তিনেজ জানান, ক্লাবের নেতৃত্ব ও কোচের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের মতামত বিনিময় করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পেয়েছে।
নিজের আবেগপ্রবণ স্বভাবের কথা উল্লেখ করে আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার বলেন, ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তবে পরাজয়ের হতাশা থেকে তিনি এমন সময়ে ও এমন পরিস্থিতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা হয়তো যথাযথ ছিল না। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে দলের ঐক্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মার্তিনেজ। তাঁর মতে, সবাই একসঙ্গে থাকলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে। নিজের মন্তব্য সেই ঐক্য বজায় রাখতে সহায়তা করেনি বলেও স্বীকার করেন তিনি।
আয়াক্স থেকে চার বছর আগে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া মার্তিনেজ পরে জানান, রাগ ও হতাশা থেকেই তিনি ওই কথাগুলো বলেছিলেন। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরও ক্লাবের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে রেহাই পাননি তিনি। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ক্লাবটির সাবেক অধিনায়ক রয় কিন। ‘দ্য ওভারল্যাপ’ পডকাস্টে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিস্থিতিকে ‘একধরনের সার্কাস’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর মন্তব্যে ক্লাবটির সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে চলমান সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিবেশও এখন আলোচনায়। দল গঠনে বিনিয়োগ, কোচকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মার্তিনেজের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আগামী রোববার প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের মুখোমুখি হওয়ার কথা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ওই ম্যাচে মার্তিনেজকে একাদশে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোচ ক্যারিকের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
মার্তিনেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার আরেকটি বড় কারণ তাঁর চুক্তি। মৌসুম শেষে ইউনাইটেডের সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। চুক্তিতে আরও ১২ মাস মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও ক্লাব সেই বিকল্প ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও স্বস্তিদায়ক নয়। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে দলটি গত ৪০ বছরের মধ্যে লিগে নিজেদের সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড গড়ে। পয়েন্ট তালিকায় ১৩তম অবস্থানে থাকা ক্লাবটির জন্য মাঠের ফল উন্নত করার পাশাপাশি দলের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাও বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, ক্ষমা চেয়ে বিতর্ক প্রশমনের চেষ্টা করলেও মার্তিনেজের সামনে এখন অনিশ্চিত সময়। লিডসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণ এবং মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ইউনাইটেডের সিদ্ধান্তই আগামী দিনে ক্লাবটিতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।









