নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের খবর প্রকাশ করতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় লুৎফুজ্জামান তেলনজিয়া বাজারের একটি দোকানে চা পান করেন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় দুই যুবক দোকানে এসে সিগারেট চান। একপর্যায়ে তাঁরা হঠাৎ লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন।
গুলির শব্দে বাজারের আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছু দূরে রাখা একটি মোটরসাইকেলে উঠে তাঁরা পালিয়ে যান। আকস্মিক এই হামলায় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহতের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডটি সুপরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে হত্যার পেছনে কারা রয়েছে, কী কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের পরিচয় কী—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
লুৎফুজ্জামানকে এর আগেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আগের ওই হামলার সঙ্গে এবারের হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকেরা নানা ধরনের অপরাধ, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসব প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লুৎফুজ্জামান হত্যার ঘটনায় এখন পুলিশের সামনে প্রধান কাজ হলো হামলাকারীদের শনাক্ত করা, পালিয়ে যাওয়ার পথ ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং হত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা। আগের হামলার ঘটনাটিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ওপর।








