লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে নুর মোহাম্মদ ওরফে ঢাকাইয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই নুর ইসলাম ও শামিম বিন ইফতেখার বাবুকে আটক করেছে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ।
রোববার রাতে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাড়াইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুর মোহাম্মাদের সঙ্গে তার বড় ভাই নুর ইসলামের জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পরই জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রোববার বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নুর ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে নুর মোহাম্মদের হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুর ইসলাম লাঠি দিয়ে নুর মোহাম্মদের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আঘাতের পর তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে রংপুরে নেওয়ার পথে নুর মোহাম্মদের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগমের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় নুর ইসলামের লোকজন আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নুর মোহাম্মদকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া সম্ভব হয়। সেখান থেকে রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। পরে নুর ইসলাম ও শামিম বিন ইফতেখার বাবুকে আটক করা হয়। হামলার ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষ এবং পরে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুর পুরো ঘটনাক্রম তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনায় প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।









