জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

জন্মদিনে উৎসব নয়, ভাইয়ের সুস্থতার প্রার্থনা বেবী নাজনীনের

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের জন্মদিন আজ। প্রতিবছর এই দিনটি ঘিরে ভক্ত-শ্রোতাদের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও নানা আয়োজন থাকলেও এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আনন্দ-উৎসবের বদলে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে জন্মদিন কাটছে তাঁর। কারণ, তাঁর ছোট ভাই ও সাংবাদিক এনাম সরকার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভাইয়ের অসুস্থতা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেবী নাজনীনও গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। কয়েক মাস ধরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে এনাম সরকারের। তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া।

বেবী নাজনীন জানিয়েছেন, সাধারণত তিনি ঘটা করে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন না। তাই এবারও বিশেষ কোনো আয়োজন রাখেননি। তবে এবার জন্মদিনে উৎসব না করার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ভাইয়ের অসুস্থতা। এই মুহূর্তে নিজের জন্মদিনের শুভেচ্ছার চেয়ে তাঁর কাছে ভাইয়ের সুস্থতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভক্ত ও শ্রোতাদের প্রতি তাই বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন এই শিল্পী। নিজের জন্য শুভকামনা জানানোর পরিবর্তে তিনি সবাইকে এনাম সরকারের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করতে বলেছেন। পরিবারের এই কঠিন সময়ে প্রিয়জনের সুস্থতার প্রত্যাশাই তাঁর কাছে জন্মদিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।

বেবী নাজনীনের ব্যক্তিজীবনে সাম্প্রতিক বছরগুলোও ছিল নানা পরিবর্তনে ভরা। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে দীর্ঘ সময় দেশে ফেরার সুযোগ না পাওয়ার কথাও তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। ওই সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সংগীতচর্চা থেকেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর দেশে ফেরেন বেবী নাজনীন। এরপর আবারও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। সংগীতের জগতেও নতুন করে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

চার দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে বেবী নাজনীন দেশের সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য, আবেগঘন পরিবেশন এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে পরিচিত করে তুলেছে। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বেতার এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত গান করেছেন তিনি। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপনেরও রাত’, ‘দুচোখে ঘুম আসে না’, ‘মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে’, ‘ওই রংধনু থেকে’, ‘পত্রমিতা’, ‘মরার কোকিলে’, ‘আর কতদিন’, ‘লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে’ ও ‘প্রিয়তমা’সহ তাঁর বহু গান দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে। তাঁর গানের জনপ্রিয়তা শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পুরোনো গানগুলো এখনো শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে এনাম সরকারও সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যক্তি। প্রায় তিন দশকের পেশাজীবনে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদ সম্পাদনা, বার্তা ব্যবস্থাপনা এবং সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সর্বশেষ তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সাংস্কৃতিক সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

ভাই-বোনের সম্পর্কের আবেগ বেবী নাজনীনের এবারের জন্মদিনকে অন্যরকম করে তুলেছে। একদিকে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের অসংখ্য ভক্তের শুভেচ্ছা, অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভাইকে ঘিরে পরিবারের উৎকণ্ঠা—দুই বিপরীত অনুভূতি পাশাপাশি রয়েছে।

তাই এবার জন্মদিনে কোনো উৎসব নয়, বেবী নাজনীনের একটাই প্রত্যাশা—এনাম সরকার দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। ভক্ত-শ্রোতাদের কাছেও তাঁর একমাত্র অনুরোধ, তাঁরা যেন তাঁর ভাইয়ের আরোগ্যের জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর