জনমত প্রভাবিত করতে ‘মব জাস্টিস’ সফল হবে না: জামায়াত আমির

রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খল জনতা বা ‘মব’ তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার অপরাজনীতি এখন আর কার্যকর হবে না। তিনি এই ধরনের পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধের আহ্বান জানান। জামায়াত আমিরের মতে, মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা ব্যালটের মাধ্যমেই সকল অন্যায়ের জবাব দিতে প্রস্তুত।

ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট

গত মঙ্গলবার মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের নির্বাচনী বৈঠক চলাকালে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত হন।

তবে স্থানীয় থানা পুলিশের মতে, জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছিলেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তথ্য সংগ্রহের কারণ জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান চিত্র:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা
ঘটনাস্থলপীরেরবাগ, মিরপুর (ঢাকা-১৫ নির্বাচনি এলাকা)।
সংঘর্ষের মূল কারণভোটার তথ্য সংগ্রহ ও নারী কর্মীদের অবরুদ্ধকরণ নিয়ে বাদানুবাদ।
জামায়াতের অভিযোগবিএনপি কর্মীদের হামলায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত ও আহত।
পুলিশের বক্তব্যতথ্য সংগ্রহ নিয়ে উত্তেজনার জেরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
বর্তমান পরিস্থিতিএলাকায় উত্তেজনা কমাতে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার।

ডা. শফিকুর রহমানের কড়া বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি

হাসপাতালে আহতদের শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কেউ যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তবে তা দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু কোনো দল বা ব্যক্তির অধিকার নেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব তৈরি করার।” তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের কায়দায় যদি আবারও নির্বাচনী ময়দানকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে বর্তমান যুবসমাজ তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা মা-বোনদের গায়ে হাত তুলেছে, তারা পারিবারিক শিক্ষার চরম অভাব প্রদর্শন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাদের নিজেদের ঘরে কি মা-বোন নেই?

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডা. শফিকুর রহমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “সরকারকে তাঁদের দেওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। সকল দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” জনগণের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের পছন্দের প্রতীকে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

উপসংহার

মিরপুরের এই সংঘাত ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। জামায়াত আমিরের এই কড়া বার্তা মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান। তবে প্রচারণার শুরুতে এমন সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।