ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করা হলে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি পুনরায় খোলা হয়েছে বলে ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়।
ইরানের ছাত্র সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরসমূহের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ওই বিবৃতিতে এই অবরোধকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তায় বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত কোনো বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো জাহাজ যেন নোঙর ত্যাগ না করে। প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নির্দেশ অমান্য করলে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অদক্ষ ও অজ্ঞতাপূর্ণ।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালিটি খুলে দিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার ঘোষণা দেন যে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য হ্রাস পায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গিয়ে পুনরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতা নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| শুক্রবার | হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা |
| কিছু সময় পর | একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে |
| কয়েক ঘণ্টার মধ্যে | নৌবাহিনী পুনরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে |
| পরবর্তীতে | প্রণালি কার্যত বন্ধ ও সতর্কবার্তা জারি |
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ইরানের নৌবাহিনীর দুটি ছোট যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই গুলিবর্ষণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে ওই অঞ্চলে থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বেতার বার্তার মাধ্যমে সতর্কতা পায় যে প্রণালি দিয়ে চলাচল বর্তমানে নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে পারে এবং নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, নৌবাহিনী শত্রুপক্ষকে নতুন করে কঠোর পরাজয়ের মুখে ফেলতে প্রস্তুত রয়েছে। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
