নূরনবীর চিকিৎসার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল বিক্রির উদ্যোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মীর নূরনবী কয়েক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্থাভাবের কারণে তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নূরনবীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে ফুল বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।

রোববার সকালে একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্যের চত্বরে টেবিল–চেয়ার পেতে ফুল বিক্রি করতে দেখা যায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্যদের। এরপর শহীদ মিনার, কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদের প্রাঙ্গণে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ফুল বিক্রি করে নূরনবীর চিকিৎসা সহায়তার জন্য অর্থ তোলা হয়।

নূরনবী বর্তমানে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে এবং পরে বাঁ পা কেটে দিতে হয়। তবুও তিনি পড়াশোনায় হাল ছাড়েননি। অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হন এবং সাভার থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে নিয়মিত ক্লাস করেন। ইতিমধ্যে তিনি সাতটি সেমিস্টার শেষ করেছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ক্যানসার এখন তাঁর ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, “সবার সহায়তা নূরনবীর জীবনে নতুন আলো এনে দিতে পারে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালিকা লাগানো হয়েছে এবং সামনে আরও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আসুন, মানবতার বন্ধনে এক হয়ে নূরনবীর পাশে দাঁড়াই।”

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, “অনেকেই নানা উপায়ে নূরনবীর জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। আমরা একটু ভিন্নভাবে ফুল বিক্রির মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাড়া বেশ ভালো, শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নূরনবীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক কে এ এম রিফাত হাসান বলেন, “ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। যে বাজেট দেওয়া হয়, তা শুধু দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে নূরনবীর চিকিৎসার জন্য সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করলে আমরা সহযোগিতা করব।”

জিলাইভ/টিএসএন