সেপ্টেম্বরের জরিপগুলোতে ইঙ্গিত মিললেও গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের মেয়র এবং নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচনের ফল স্পষ্ট করেছে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত এখন আগের চেয়ে আরও জোরালো। রিপাবলিকান পার্টির নেতা ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও বিষয়টি বুঝতে পেরে এসব নির্বাচনে নিজের ভূমিকা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
তিন রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের কাছে পরাজয় এখন রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগ। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এসব নির্বাচনে তাঁর কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তিনি প্রার্থীদের সমর্থনও করেননি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ভোটাররা এবার সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। ব্যালটে তাঁর নাম না থাকলেও এত স্পষ্টভাবে কোনো নেতার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার উদাহরণ সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল।
সিএনএনের নির্বাচনী আগের জরিপে দেখা যায়—৪১% ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান জানাতে ভোট দিতে চান, যেখানে মাত্র ২১% সমর্থনের পক্ষে। অর্থাৎ ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ, গত ২০ বছরে যা দেখা যায়নি। তুলনামূলকভাবে, ২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চেয়েছিলেন ৩৬% ভোটার; ট্রাম্পের ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৩৮%।
গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে এসব প্রবণতাবাস্তবেও দেখা গেছে। ২০১৭ সালের তুলনায় এবার ভার্জিনিয়ায় ট্রাম্পবিরোধী-বান্ধব ভোটের ব্যবধান ১৭ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ২২ পয়েন্ট হয়েছে। নিউ জার্সিতে ১৭ পয়েন্ট থেকে ২৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
‘নো কিংস’ আন্দোলনের উত্থান
ট্রাম্পবিরোধী ভোট বাড়ার দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত হয়েছে।
প্রথমত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘নো কিংস’ আন্দোলন। এই আন্দোলনের সমাবেশগুলো সুসংগঠিত, গণমাধ্যমে প্রভাবশালী এবং অংশগ্রহণকারীরা ভোট দিতে আরও উৎসাহী—যদিও তাঁরা ডেমোক্র্যাট দলের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন।
দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের মূল ভোটশ্রেণি এখন আগের তুলনায় অনেকটাই অনুৎসাহী। ফলে রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মোট চিত্রে দেখা যাচ্ছে—ট্রাম্পবিরোধী ভোট আগের চেয়ে শক্তিশালী ও উচ্চকণ্ঠ; আর ট্রাম্পপন্থী ভোট ধীরে ধীরে কমছে, যা আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
জিলাইভ/টিএসএন
